ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র কারণে কলকাতা বিমানবন্দর বন্ধ রাখার কথা বুধবারই ঘোষণা করেছিলেন কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কোনও বিমান ওঠানামা করবে না বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু কলকাতা বিমানবন্দরই নয়, ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ১৬ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাতিল করা হচ্ছে প্রায় ৫৫০টি ট্রেন।
শক্তি বাড়িয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যে তার সম্ভাব্য ‘ল্যান্ডফল’ হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে জলোচ্ছ্বাস প্রবল হতে পারে, সতর্ক করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। ঢেউয়ের উচ্চতা হতে পারে সর্বোচ্চ ১৪ ফুটেরও বেশি!
সমুদ্রে ১২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে উপকূলের দিকে এগোচ্ছে ‘দানা’। অভিমুখ মূলত উত্তর-পশ্চিম। (Weather) আবহবিদেরা জানিয়েছেন, ওড়িশার ভিতরকণিকা থেকে ধামারার মধ্যে ‘দানা’ আছড়ে পড়তে পারে। ওই সময়ে অর্থাৎ, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত উপকূলে ঢেউয়ের উচ্চতা হবে সবচেয়ে বেশি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটে থেকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যে ঢেউ উঠতে পারে ৯.৮৪ ফুট থেকে ১৪.৪৩ ফুট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে উপকূল খালি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নৌকা, ছোট ছোট জলযান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে বলেছে হাওয়া অফিস।
আলিপুর (Alipur ) থেকে শেষ প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, ‘দানা’ ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব, ধামারা থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ থেকে ২৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ (Dana) কোথায় হিট করবে তা জানার আগেই কলকাতা পৌরসভা আধিকারিকদের নিয়ে মঙ্গলবার ও বুধবার মিটিং করেন। আপাতত শুক্রবার পর্যন্ত সমস্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নবান্নের পক্ষ থেকে কলকাতা পুরসভাকে আরও অ্যাক্টিভ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ ভাল প্রভাব ফেলবে দু’দিন কলকাতা শহরে। যেদিন ঘূর্ণিঝড় কলকাতার উপর দিয়ে বয়ে যাবে সেদিন, আর তার পরের দিন। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার মহানগরীতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে গাছ উপড়ে পড়তে পারে। জল জমে সমস্যা তৈরি হতে পারে। আর তাই এবার আগাম ব্যবস্থা নিয়ে রাখল কলকাতা পুরসভা। মেয়র নিজে আধিকারিকদের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেন। প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
কলকাতা পুরসভার কমিশনার ধবল জৈন জানান, ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় সমস্ত দিক থেকে তৈরি আছে কলকাতা পুরসভা। সমস্ত রকম প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সারা হয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে পৌরসভার পক্ষ থেকে । এই বিষয়ে কলকাতা পুরসভার অফিসারদের সব প্রস্তুতি সেরে রাখতে বলেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তবে ইতিমধ্যেই দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুরের মতো পর্যটনকেন্দ্রের দিকে কড়া নজর রাখছে রাজ্য প্রশাসন। বুধবার সকাল থেকেই কার্যত পর্যটকহীন সমুদ্রসৈকত দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, এখন থেকেই শহরের বাতিস্তম্ভগুলির হাল খতিয়ে দেখা শুরু হয়ে গিয়েছে। যাতে কোথাও বিদ্যুতের তার সেখান থেকে বেরিয়ে না থাকে। বিদ্যুৎ সংযোগ সর্বত্র ঠিক আছে কিনা সেগুলিও দেখে নেওয়া হচ্ছে। যাতে কারেন্ট লেগে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে। শহরের নানা প্রান্তে গাছ পড়লে দ্রুত সেটা সরানোর ব্যবস্থা যাতে থাকে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এমনকী প্রত্যেকটি বরোয় থাকছে বিশেষ টিম। যাঁরা বিপদে মানুষকে সহায়তা করবে।